«

»

ডিসে. 20

কেমিকৌশল পরিচিতি – লেকচার ৪

কেমিকৌশল পরিচিতি কোর্সের চতুর্থ লেকচারে সবাইকে স্বাগতম!

আজকে মূলত দুটো ভাগ থাকছে –

(১) শিল্পকারখানায় কাজের ও পরিবেশগত নিরাপত্তা (অডিও সাক্ষাতকার)

(২) বাংলাদেশে  ইউরিয়া সারের উৎপাদন এবং এতে কেমিকৌশলীদের ভূমিকা (ভিডিও লেকচার)।

শুরুতেই থাকছে  কেমিকৌশলী চৌধুরী মোহাম্মদ তৌহিদ আমিনের সাক্ষাতকার, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের একজন অন্যতম শিল্প ও কারখানা স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি একটি প্রানবন্ত সাক্ষাতকার দিয়েছেন কেমিকৌশল পরিচিতি কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য। তিনি আলোচনা করেছেন-

(১) কারখানা নিরাপত্তা (Process Safety) আসলে কি?

(২) EHS (Environmental Health & Safety) বলতে কি বোঝায়? এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

(৩) রাসায়নিক নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলি কি কি?

(৪) একটি রাসায়নিক কারখানায় কি কি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা প্রটোকল থাকে?

(৫) একটি কারখানা আসলে কতটুকু নিরাপদ?

এছাড়াও একজন কেমিকৌশলী কীভাবে একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হতে পারেন সে ব্যাপারে তিনি তার নিজের অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে শেয়ার করেছেন। সাক্ষাতকারের অডিওটি শুনতে পাবেন এখানে-

সাক্ষাতকার: শিল্প-কারখানায় কাজের ও পরিবেশগত নিরাপত্তা

দ্বিতীয় ভাগে থাকছে ভিডিও লেকচার যেখানে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশে ইউরিয়া শিল্পের অবস্থান কী এবং  কীভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয় ।

ভিডিও-১: বাংলাদেশের ইউরিয়া শিল্প

ভিডিও-২: ইউরিয়া উৎপাদন প্রক্রিয়া

 

ভিডিও লেকচারের উপর সংক্ষিপ্ত নোট

আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, কি কি উপায়ে ইউরিয়া উৎপন্ন করা যায়, তাহলে একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে আপনি শুরুতে যেটি করবেন সেটি হচ্ছে ইউরিয়া জিনিসটা আসলে কি কি পরমাণুর সমন্বয়ে তৈরি সেটা জানা। ইউরিয়া হচ্ছে একটি অণু যার রাসায়নিক সংকেত CO(NH2)2, অর্থাৎ একটি ইউরিয়াতে চার ধরণের পরমাণু থাকে – কার্বন (C), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন ( N ) এবং হাইড্রোজেন (H)। তারমানে, ইউরিয়া তৈরির জন্য এই চার ধরণের পারমাণবিক কাঁচামাল দরকার। কিন্তু প্রকৃতিতে যেহেতু এই পরমাণুগুলি সহজে পরমাণু হিসেবে পাওয়া যায় না, তাই এদেরকে সংগ্রহ করা হয় যে সমস্ত অণুতে এই পরমাণুগুলি আছে তাদেরকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন, কর্ণফুলী ইউরিয়া সার কারখানা কিংবা আশুগঞ্জের জিয়া সার কারখানায় ইউরিয়া তৈরির C, O, N এবং H সংগ্রহ করা হয় প্রাকৃতিক গ্যাস (মূল উপাদান মিথেন বা CH4), পানি (H2O) এবং বাতাস (N2 ও O2) থেকে।

এই কাঁচামালগুলিকে একসাথে রাখলেই আপনাআপনি ইউরিয়া তৈরি হয় না। আসলে কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক রেসিপি বা ফর্মুলা অনুসরণ করেই কাঁচামাল থেকে ইউরিয়া তৈরি করা যায়। আমাদের সার কারখানাগুলি যে রেসিপি অনুসরণ করে তার কয়েকটি ধাপ আছে। প্রথম ধাপে প্রাকৃতিকগ্যাসকে পানির সাথে বিক্রিয়া (যাদেরকে কেতাবি ভাষায় বলে স্টিম রিফর্মিং (Steam Reforming) এবং শিফট বিক্রিয়া (Shift Reaction)) করে CO2 এবং H2তে রূপান্তরিত করা হয়। স্টিম রিফর্মিং করে আমরা পাবো সিনগ্যাস (CO এবং H2 এর মিশ্রণ)। আর সিনগ্যাস থেকে শিফট বিক্রিয়ার মাধ্যমে পাবো CO2 এবং H2 এর মিশ্রণ। জটিল মনে হচ্ছে? আরে তেমন কিছুই না। খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা এখানে মাত্র তিনটি পরমাণু নিয়ে খেলছি। প্রাকৃতিক গ্যাসের C এবং H, আর পানির H এবং O – এরা স্পেনের ফুটবল টিমের মত পাসের পর পাস দিয়ে পরিশেষে দুইটি নতুন অণু তৈরি করলো – CO2 এবং H2। CO2 হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড আর H2 হচ্ছে হাইড্রোজেনের অণু।

কিন্তু আমরা চাচ্ছি ইউরিয়া, মানে CO(NH2)2। তারমানে, রেসিপিতে এখনো N যোগ করা বাকি। N এর সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস হচ্ছে বাতাস। বাতাসের ৭৯%ই নাইট্রোজেন অণু (N2)। মুশকিল হচ্ছে, বাকি যে ২১% অক্সিজেন (O2) সেটি থেকে N2কে তো আলাদা করতে হবে। ধরুন কোনো উপায়ে তাকে আলাদা করলাম, কিন্তু সেই N2কে ইউরিয়ার মধ্যে ঢুকাবো কীভাবে? (N ছাড়া ইউরিয়া আর টাকা ছাড়া ব্যাংক একাউন্ট একই কথা। ইউরিয়ার কাজই হচ্ছে গাছের প্রয়োজনীয় N যোগানো।)

আমরা প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি আর বাতাসকে রান্না করে পেলাম CO2, N2 এবং H2। এই তিনটি অণু দিয়ে ইউরিয়া তৈরি করা যাবে। (তারমানে, আপনি যদি কোনোভাবে এই তিনটি জিনিসের যোগান দিতে পারেন, তাহলেই কেল্লা ফতে)। তবে আগে যেমন বলেছি, CO2, N2 আর H2কে একসাথে মিশিয়ে ঘুটা দিলেই ইউরিয়া তৈরি হবে না। প্রথমে N2 আর H2কে বিক্রিয়া করিয়ে তৈরি করতে হবে অ্যামোনিয়া (NH3)। প্রতি এক অণু N2 আর তিন অণু H2 মিলে তৈরি করবে দুই অণু NH3। অ্যামোনিয়াও কিন্তু এক জাঁদরেল রাসায়নিক পণ্য, হাজারটা কাজে লাগে। এই অ্যামোনিয়া (NH3) আর CO2 একসাথে মিশে তবেই উৎপন্ন হবে আমাদের অতি প্রিয় ইউরিয়া (CO(NH2)2)।

===========================

কোর্সের অন্যান্য লেকচার পাবেন এখানে

===========================

Comments

comments

About the author

ফারুক হাসান

কেমিকৌশল নিয়ে পড়াশুনা বুয়েট (বিএসসি) এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরে (পিএইচডি)। বর্তমানে মার্কিনযুক্তরাস্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিপরবর্তী গবেষক হিসেবে কর্মরত। গবেষণার প্রধান বিষয়ঃ তেল ও গ্যাস শিল্প, কার্বন নিঃস্বরন ও প্রতিকার, উৎকর্ষায়ণ (Optimization), এবং কারখানা নকশা (process design)। প্রধান শখ বই পড়া, ব্লগিং এবং সিনেমা দেখা।

Leave a Reply